শুভ জন্মদিন মহামতি আইনস্টাইন

Spread the love

einstein1স্টিফেন হকিং-এর ধারণা আজ থেকে কয়েকশত বছর পরে মানুষ যখন বিজ্ঞানের ইতিহাস লিখবে তখন সেখানে মাত্র চারজন বিজ্ঞানীর কথা থাকবে। গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন আর হকিং নিজে!

এদের মধ্যে আইনস্টাইনের ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। আপনার ল্যাবরেটরি আর যন্ত্রপাতি কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তরে আইনস্টাইন মাথা দেখিয়ে বলতেন ঐটাই তাঁর ল্যাবরেটরি আর কাগজ-কলম হলো তাঁর গবেষণার যন্ত্রপাতি।

অন্য অনেক বিজ্ঞানীর মতো আইনস্টাইন কিন্তু ছোটবেলায় ক্লাসে ফার্স্ট হতেন না। এমনকী কখনো কখনো স্যারদের বকাও খেতেন। কিন্তু চিন্তার স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে আইনস্টাইন ছিলেন ব্যতিক্রম। গ্যালিলিও ছিলেন এক্সপেরিমিন্টাল বিজ্ঞানী। হাতে-কলমে করার লোক। যেমন উনি একটা লোহার বলকে একটা কাঠের পাটাতনে গড়িয়ে দিতেন। তারপর ঐ পাঠাতনকে ক্রমাগত স্মুথ করতে থাকলেন। দেখলেন সেটি যত স্মুখ হয় ততই বলটি বেশি দূর যায়। আর এ থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, বাধা না থাকলে চলন্ত বস্তু চলতেই থাকবে। আইনস্টাইন ছিলেন হাতে-কলমে কাজের ব্যাপারে অলস। তিনি কেবল থট এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালবাসতেন। আর সেগুলো করেই তিনি আপেক্ষিকতা তত্ত্বের বিশেষ এবং সাধারণ রূপটি খুঁজে পান। আমার নিজের ধারণা ১৯০৫ সালের দিকে তিনি যে তিনটি একেবারে নতুন ধারণা নিয়ে আসতে পেরেছেন তার কারণ হলো তাঁর কোন সুপারভাইজর ছিল না! থাকলে তার খবর  ছিল।

আইনস্টাইনের বেহালা বাজাতেন আর এ কারণে স্পিনোজার ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন। সুরের ঐকতানের কারণে দুনিয়াজুড়ে একটা ঐকতানের পক্ষে ছিলেন। কাজে বোর আর হাইজেনবার্গের নেতৃত্বে যখন কোয়ান্টাম বিশ্ব বিকশিত হচ্ছে তখন তিনি তার বিরোধিতা করেন। প্রথম ও দ্বিতীয় সলভে কনভেনশনে বোরদের সঙ্গে তাঁর যে ঝগড়া তা অবশ্য শেষপর্যন্ত বিজ্ঞানকেই এগিয়ে নিয়েছে। বেহালার সুরই এটার একমাত্র কারণ ছিল না। আর একটা কারণ ছিল ততোদিনে আইনস্টাইন বুড়ো হয়েছেন। কাজে কোয়ান্টাম জগতে আইনস্টাইনকে মনে হয় বেচারা আইনস্টাইন!

তবে, তিনি তরুনদের দেখতে পারতেন। এ কারনে আমাদের সত্যেন বসুর কাজটিকে সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন। 

গ্যালিলিওর মৃত্যুর বছরে জন্ম হয়েছিল নিউটনের। আর আইনস্টাইনের মৃত্যুর বছরে বিল গেটস আর স্টিভ জবসের। এ যেন ইতিহাসের ব্যাটন রেস। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সত্য ও সুন্দরের পতাকা বহন করে চলা।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বাড়িতে আইনস্টাইন থাকতেন তার কাছেই এখন থাকেন আমাদের জাহিদ হাসান। হয়তো একদিন তিনি বিজ্ঞানের মহীরুহতে পরিণত হবেন।

আজ মহামতি আইনস্টাইনের জন্মদিন। কোন একদিন পৃথিবীর ইতিহাস লেখা হবে চার পৃষ্ঠায় আর তার তিন পৃষ্ঠাজুড়ে থাকবে আইনস্টাইনে্র কথা।

শুভ জন্মদিন আইনস্টাইন!

[জন্মদিন পালনের সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হলো বাংলা উইকিপিডিয়াতে আইনস্টাইনের নিবন্ধে কয়েকলাইন যোগ করা। তাতে এই মহামতি সম্পর্কে বাংলা ভাষীরা অনেক তথ্য পেতে পারবে। আমার ধারণা এটিই তাঁকে স্মরণ করার বেস্ট পদ্ধতি]

 

One Reply to “শুভ জন্মদিন মহামতি আইনস্টাইন”

Leave a Reply