“মন্তব্য পড়ো না”!!!

Spread the love

উনিশ শতকের সূচনা বছরটা পদার্থ বিজ্ঞানের জন্য একটা বিশেষ বছর কারন সেবছরেই ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার প্রয়োগ করেন। পাঁচ বছর পর আইনস্টাইন আলোক তড়িৎক্রিয়ার ব্যাখ্যায় সেটা প্রযোগ করেন এবং আপেক্ষিতার বিশেষ তত্ত্বের জন্ম দেন। তার ১১ বছর পরে আইনস্টাইন নিয়ে আসেন সাধারণ তত্ত্ব। এর আগে এক ফাঁকে রাদারফোর্ডের পরমানু মডেল। সব মিলিয়ে এক বিরাট ব্যাপার। ১৯২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানীদের একটা সম্মেলন হয়। বিজ্ঞানী ম্যাক্স বর্ন এটা সঞ্চালনা করতেন এবং প্রতিদিন সকালে তিনি জানাতেন পদার্থবিজ্ঞানের যা যা আবিস্কার বাকী আছে তার সবটুকু আগামী কয়েক বছরেই সেটা হয়ে যাবে!

কিন্তু কী আশ্চর্য। প্রায় ১০০ বছর হতে যাচ্ছে কিন্তু এখনো অনেককিছু অজানা রয়ে গেছে পদার্থ বিজ্ঞানে।এই দুপুর বেলা এসে এই কথাগুরো মনে পড়লো কারণ ইদানীং অনেকের কাছে কিছু হতাশার কথা শুনি। একটা বড় হতাশাতে আক্রান্ত হোন উদ্যোক্তারা। সেটা তার বাণিজ্যিক উদ্যোগ হোক অথবা সামাজিক। এমনকী কেউ যদি শখেও একটা নতুন কিছু করতে চায় তাহলে তার বারোটা বাজানিয়া মন্তব্য করার এক লক্ষ লোক পাওয়া যায়।

ইন্টারনেট হওয়াতে এখন ব্যাপারটা আরো সহজ হয়েছে। এই যেমন গত কয়েকদিন ধরে বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং করার উদ্যোগ পতাকা() নিয়ে বেশি কিছু বিরূপ মন্তব্য আমার চোখে পড়েছে। মনে হচ্ছে ‘তিন বেচারা’ বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং শেখাতে চেয়ে মহা অন্যায় করে ফেলেছে। এখন পর্যন্ত কেউ তাদের মারতে চায়নি বটে তবে সবাই বলেছে -এটা কিছু হইলো! আরো অনেক নেগেটিভ মন্তব্য আছে।

পতাকা() যারা বানিয়েছে তাদের প্রতি আমার অভিনন্দন ও ভালবাসা। আমি নিশ্চিত জানি তাদের এই উদ্যোগ আমাদের ভাষা জটিলতায় পিছিয়ে পড় প্রোগ্রামারদের শুরু করতে দারুনভাবে সাহায্য করবে। এবং সবাই মিলে লাগলে নি:সন্দেহে আমরা এটিকে একটি বড় জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।

আজকের স্ট্যাটাসটা পতাকা বিরোধীদের নিয়েই লিখবো ভাবছিলাম। চোখ পড়লো ওয়াই কম্বিনেটরের চেয়ারম্যান স্যাম অল্টম্যানের সর্বশেষ ব্লগ। ওয়াই সি ব্যাচের উদ্দেশ্যে গতকাল তিনি যে ই-মেইলটি লিখেছেন সেটার বিষয়বস্তু হলো নেগেটিভ প্রচারণা বা মন্তব্য। সংক্ষেপে তিনি চমৎকার করে লিখেছেন কেন নিন্দুকেরা পৃথিবীতে কিছু করতে পারেনি। যারা নিন্দুকের ভয়ে কাজ ছেড়ে দিয়েছে তারা কখনো তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি।

সেই সঙ্গে কতিনি কিছু উদাহরণ দিয়েছেন গুগল, ফেসবুক ইত্যাদি নিয়ে। দুটো জায়গা খুব চমৎকার যা আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্য শিক্ষণীয় -Overnight success usually takes a decade of uphill work. (দশক ধরে নিরন্তর চেষ্টার পরই কেবল রাতারাতি সাফল্য পাওয়া যায়)। এটি উদ্যোক্তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে, সাফল্যের জন্য পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।
এক বন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি একটি চমৎকার কথাও বলেছেন যা আমি মেনে চলি-A friend of mine likes to say “there are two kinds of people in the world–the people that build the future, and the people who write posts on the internet about why they’ll fail”.  Keep trying to be in former category. (পৃথিবীতে দুই ধরণের মানুষ আছে। এক দল যারা ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করে। আর এক দল ইন্টারনেটে বসে বসে পোস্ট দেয় কেন প্রথমোক্ত দল ব্যর্থ হবে। )

যারা অনুমান করতে পেরেছেন তার নিশ্চয়ই বুঝেছেন তার  পোস্টর শিরোনাম-

Don’t Read The Comments

কাজে যারা তোমার কাজের পেছনে ব্যর্থতার রসদ খুঁজে বেড়ায়, তোমার কাজের স্বীকৃতি দিতে চায় না কিংবা অন্যদের কাছে তোমাকে ক্ষুদ্র করার চেষ্টা করে তাদের বরং তুমি ক্ষমা করে দাও এবং তাদের থেকে দূরে থাকো।

জয় বাংলা

 

 

 

One Reply to ““মন্তব্য পড়ো না”!!!”

Leave a Reply Cancel reply

Exit mobile version