বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারী

Spread the love

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ লক্ষ ছুয়েছে। তবে, ২০১৩ সালের শেষের দিকে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি যেমনটি বেড়েছে, সেই তূলনায় এখন বাড়ার হার কম।

২০১৩ সালে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন ব্যবহারকারী বেড়েছে। তবে, এখন নতুন একজন ব্যবহারকারীর জন্য প্রায় ৪০ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেসবুককে। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি দেশে ফেসবুক একাউন্ট ছিল ৬৮ লাখ। আজ ৩১ মার্চ সেটি ৭০ লক্ষ। এরমধ্যে ৫৬ লক্ষ অর্থাৎ প্রায় ৮০% পুরুষ। এর মধ্যে ১৩-২৫ বছর বয়সীর সংখ্যাই ৫০ লক্ষ যার মধ্যে ছেলের সংখ্যা ৪০ লাখ! ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীর সংখ্যা ১৫ লাখ এবং ৩৫ বছরের উর্ধে রয়েছে বাকীরা।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারিতে বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবহারকারী ছিল ৩৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৮০ জন। আগস্ট ১৩, ২০১৩ ফেসবুকে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর সংখ্যা হয় ৫৪ লক্ষ। এর মধ্যে ৪২ লক্ষ পুরুষ এবং ১২ লক্ষ মহিলা । জুন মাসের ৫ তারিখে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩০ লক্ষ ও ৮ লক্ষ। সেই সময় মাত্র ৬৮ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৬ লক্ষ ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পায়। সেই সময়ে মূল মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে ফেসবুকের নাম এসেছে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ফেসবুকের উল্লেখ, রামুর ঘটনা, চাঁদের বুকে সাঈদী ইত্যাদি নানান কারণে অনেকে ফেসবুকের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।২০১৩ সালে ফেসবুকের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আর একটি কারণ তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল। বর্তমানে মোবাইল থেকে ফেসবুক ব্যবহারের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুততার সঙ্গে।সেই সঙ্গে একাধিক মোবাইল অপারেটরের দেওয়া জিরো ফেসবুকও বিপুল সংখ্যক নতুন ব্যবহারকারী এনে দিয়েছে ফেসবুককে।

২০১৩ এর তুলনায় চলতি বছরের বাড়ার হার কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ সম্ভবত রাজনীতির একটু ধীরে চলা অথবা রাজনৈতিক খবরাখবর কমে যাওয়া। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাস থেকে লাগাতার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও অনেককে টেলিভিশনে নিয়ে গেছে যারা হয়তোবা খেলার পর ফেসবুকে আসতে পারে। আমার ধারণা ঢাকার মত বড় শহরগুলোতে সম্ভবত গ্রোথরেট অনেক কমে গেছে বা সেখানকার অডিয়েন্স হয়তো স্যাচুরেটেড হযে গেছে। এই বাড়ার হার কমার সঙ্গে দেশে মোবাইল ফোনসেট বেঁচাকেনার হার হ্রাস-বৃদ্ধির কোন সম্পর্ক আছে কী না সেটিও তরিয়ে দেখা যায়।

২০১২ সালের প্রথম দিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২৩ লক্ষ+। তারমনে পুরো ২০১২ সালে বেড়েছে মাত্র ১০ লক্ষ।
আমি ২০০৯ সালের আগস্ট মাস থেকে ফেসবুকে আমাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা, তাদের গতিপ্রকৃতি ইত্যাদি জানার চেষ্টা করি, নিছক কৌতুহলের বশে। সে সময় আমাদের ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার।

তো, আমাদের ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে কী করে? তাদের মধ্যে কতটি ফেক একাউন্ট আছে? কতো লোকের একাধিক একাউন্ট আছে? কতো পেজ বা গ্রুপ এই দেশ থেকে চালানো হয়? -এগুলোও মনে হয় ফলো করা সম্ভব। আমি কয়েকটা পেজের ফ্যানের সংখ্যা খেয়াল করেছি।

প্রথম আলো

১৫,৩৮,৩১২

সাকিব আল হাসান

১৫,৩৫,০৪৬

এয়ারটেল বাজ

১২,৭২,৪৩১

বিডিনিউজ২৪

১২,৪৩,৭৯৩

বাংলালিংক

১০,৩৭,৯২৩

নাসির হোসেন

৯,৫৫,০৮৮

বিবিসি বাংলা

৯,৫৬,০৪২

নয়াদিগন্ত

৯,৪৯,১৮৪

গ্রামীণফোন

৯,৪৬,৫৪৯

বাংলানিউজ ২৪

৮,৬৭,১৮৩

এবিসিরেডিও

৬,৯৯,২৩৪

ইত্তেফাক

৬,৩৫,৪৭৩

কালের কন্ঠ

৪,৪৮,২৯৮

*৩১ মার্চের হিসাব

চেষ্টা করলেও এখন আর ফেসবুককে অস্বীকার করার উপায় কারো নাই। সে ব্যক্তি হোক বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হোক। আর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ফেসবুক এক নতুন সম্ভাবনার নাম। আশাকরি, কেও না কেও এখন থেকে ফেসবুক/টুইটার কিংবা অনুরূপ সাইটগুলোতে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত রাখবে এবং তা নিয়মিত প্রকাশ করার উদ্যোগ নেবে।

সবার জীবন পাই-এর মত সুন্দর হোক।

One Reply to “বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারী”

Leave a Reply Cancel reply

Exit mobile version