অ্যাডা লাভলেস, বেগম রোকেয়া ও গ্রেস হপার

Spread the love
১০ ডিসেম্বর। বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার অ্যাডা লাভলেসের জন্মদিন। তাঁর স্মরণে কম্পিউটারের একটি প্রোগ্রামিং ভাষার নাম অ্যাডা। অ্যাডাকে নিয়ে কিছুটা লিখেছি আগে। 
গতকাল ৯ ডিসেম্বর ছিল গ্রেস হপারের জন্মদিন। মেয়েদের প্রোগ্রামিং জগতের দৃপ্ত পদচারণার আর এক নাম। একই দিন আমাদের বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিনও বটে।
ছবিতে অ্যাডা ও গ্রেসের মাঝখানে বেগম রোকেয়াকে রেখেছি। বেগম রোকেয়া আমাদের নারীমুক্তির প্রতীক। আজ সকাল থেকে আমি ভেবেছি তিনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে নারীর মুক্তির জন্য মেয়েদের কোন মন্ত্র দিতেন?
আমার ধারণা তিনি বলতেন – প্রোগ্রামিং করো।
কেন বলতেন?
অ্যাডা লাভলেস (ডিস ৯, ১৮১৫ – নভে ২৭, ১৮৫২)

বলতেন এজন্য যে প্রোগ্রামিং কেবল একটি করার বিষয় নয়। এটি হলো সেই টুলস যা মানুষকে সৃজনশীল, যুক্তির কাঠামোবদ্ধ প্রয়োগ এবং বড় সমস্যাকে ছোট ছোট আকারে ভেঙ্গে সমাধান করার পথে দক্ষ করে তোলে। শুধু তাই নয় এটি সেই টুলস যা ছেলে বা মেয়ে সমানভাবে ব্যবহার করতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে পদধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে এটি হলো তাঁর চালিকা শক্তি।
প্রোগ্রামিং-এর ব্যাপারটা এখন খুবই সাধারণ পর্যায়ে চলে এসেছে। দেশের সকল ছেলে-মেয়েকে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এখন দেশে দেশে সরকারগুলোর একটি চ্যালেঞ্জ। আমি কিন্তু “প্রোগ্রামার হও” এই কথাটা বলছি না। বলছি প্রোগ্রামিং করার কথা। কারণ এটিই আসলে এতই দরকারি যে ভাষা, গণিতের মতো এখন এটিরও কোন বিকল্প নেই। প্রোগ্রামিং শেখা নিয়ে জাফর স্যারের একটা লেখা এখানে পড়া যাবে।

আরও দেখুন, বেগম রোকেয়াকে সারাবিশ্বের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্যও আমাদের আশ্রয় নিতে হচ্ছে উইকিপিডিয়া ও গুগলের!
গ্রেস হপার ডিসে ৯, ১৯০৬- জানু ১, ১৯৯২

অ্যাডা যে পথ দেখিয়েছেন সে পথে প্রথম পা রাখেন গ্রেস হপার। এই মহিয়সী মহিলা দেখিয়েছেন মেয়েরাও সমানভাবে প্রোগ্রামিং-এ দক্ষ হতে পারেন। তাঁর সম্মানে আমাদের মেয়েদের প্রোগ্রামিং ক্যাম্পগুলোর নাম রেখেছি গ্রেস হপার ক্যাম্প। বিশ্ব্যাপী মেযেদের প্রোগ্রামিং-এর সবচেয়ে বড় আয়োজনটার নাম গ্রেস হপার সেলিব্রেশন। আমেরিকা ছাড়াও আরও কয়েকটা দেশে হয়। ২০১৮ সাল থেকে আমাদের দেশেও আমরা এমন একটি কনফারেন্স করার কথা ভাবছি। গ্রেস হপার ক্যাম্পের কারণে এখন আমাদের আইসিপিসির রিজিওনাল রাউন্ডে অল গার্লস টিম হয় মাত্র ১৫০টি!

আমাদের দেশের মেয়েরাও প্রোগ্রামিং-এ অনেক কাজ করছে। তবে, সংখ্যাটি পর্যাপ্ত নয়। বিশ্বের বড় বড় সংস্থায় আমাদের মেয়েদের নিয়ে একটি ভিডিওর লিংক দিচ্ছি।
https://www.youtube.com/watch?v=y22tihbZrFo
২০১২ সালে আমাদের বৃষ্টি শিকদার আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে সারাবিশ্বের স্কুলের মেয়েদের মধ্যে সেরা প্রোগ্রামার হয়েছে।

আজ অ্যাডা লাভলেস দিবসে সবার জন্য আমার শুভ কামনা।

Leave a Reply