গুগলে ক্যামতে কী?

Spread the love

এক সময় আমি একটা বড় বাড়িতে চাকরি করতাম। সেখানে আমার বস কিছু হইলেই বলতেন, “মুনির, এটা গুগল করে বের করেন তো”। ওনার ধারণা ছিল সবই গুগল করে পাওয়া যায়। শেষের দিকে উনি প্রায়শ সন্ধ্যাবেলায় ফোন করে একটা কাজ দিতেন, গুগল করে দেখার।

তো, একদিন স্যার ফোন করেছেন। কাজের বর্ণণা দিয়েছেন। সব শুনে বললাম – স্যার কালকে অফিসে এসে করে দিবো।
“কেন। আপনার বাসায় ইন্টারনেট নাই।“
ছিল স্যার। আপনার অত্যাচারে লাইন কেটে দিয়েছি!!!

তো গুগল নিয়ে এই আদিখ্যেতা এখন অনেক বেড়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, গুগল করে সব জানার এই বোধটা অনেক সময় মানুষকে ভুলিয়ে দেয় যে, “ইন্টারনেট বেসিকেলি একটা মিথ্যা কথার খনি”।
আমরা যখন প্রথমবার শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস করি, তখন একজন বিচারক একটা স্মার্টফোন সঙ্গে নিলেন। যখনই কেউ বলে ইন্টারনেট থেকে নিয়েছি তখনই তিনি ফোন বের করে বলেন – আমাকে বের করে দেখাও।
গুগল এক ধরণের অজুহাতও হয়েছে।
গুগল প্রজন্মের ঝামেলা অন্য জায়গায়। অনেকেই গুগল এমন কাজে ব্যবহার করে যে , মূল ব্যাপারটা জানে না। এটার সবচেয়ে বড় প্রকাশ দেখা যায় এপ্রিলের প্রথম দিনে। সেদিন বিশ্বের অনেক ওয়েবসাইট উল্টাপাল্টা খবর/তথ্য ইত্যাদি প্রকাশ করে। আমি অন্তত ৪টি কেস জানি যখন এই “খবর”গুলো আমাদের বিভিন্ন পত্রিকা খবর হিসাবে প্রকাশ করেছে!!!

গুগলের একটা বড় বাহাদূরী হলো তারা তাদের ওখানে কে কী সার্চ করে সেটারও একটা হিসাব নিকাশ প্রকাশ করে দেয়। এই যেমন শুক্রবার ১ লা সেপ্টেম্বর – কেমনে কী (হাও টু) –এর সার্চের হিসাবটা প্রকাশ করেছে। মানে গুগলে কোন “How to ”  সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে। তালিকাটা এরকম –
1: how to tie a tie
2: how to kiss
3: how to get pregnant
4: how to lose weight
5: how to draw
6: how to make money
7: how to make pancakes
8: how to write a cover letter
9: how to make french toast
10: how to lose belly fat

মনোযোগ দিয়ে তালিকাটা দেখতে পারেন। তারপর নিজেই ঐ সার্চগুলো দিয়ে দেখতে পারেন শুরুতে কোন লিংকটা দেখায়।
সেটা থেকেও একটা ভাল সিদ্ধান্ত হয়তো বের করতে পারবেন।

হ্যাপি গুগলিং!

Leave a Reply